সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
জামিয়াতুল উস্তায শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী রাহি. : সময়ের এক উজ্জ্বল বিদ্যাপীঠ
২০১৭ সালে ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ ওয়াশপুরে, উস্তায শফিকুল ইসলাম ইমদাদী হাফিযাহুল্লাহর হাতে একটি স্বপ্নের বীজ বপিত হয়। পরবর্তীতে আমরা দেখতে পাই, অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার লহর ডিঙিয়ে সেই বীজ থেকে বেরিয়ে আসে পুরো এক সুশোভিত কানন। যার নাম জামিয়াতুল উস্তায শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী রাহি.।
সেই থেকে দেখতে দেখতে সকলের প্রিয় এই প্রতিষ্ঠানটি আজকে তার শিক্ষা কার্যক্রমের নবম বর্ষ সমাপ্তির পথে। অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানটি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। সেইসাথে অর্জন করেছে সারা দেশের আলেম, তালিবে ইলমদের আস্থা ও ভালোবাসা। দেশের অন্যতম সুপরিচিত এই বিদ্যাপীঠ, বর্তমানে বিশুদ্ধ আরবি ভাষা ও আরবি সাহিত্য চর্চার এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। প্রাচীন ঐতিহ্যের সৌরভ ও যুগ চাহিদার বাস্তবতাকে একসাথে সমন্বিত করে জামিয়াতুল উস্তায গড়ে তুলেছে এক অভিনব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো—যেখানে শিক্ষার্থীরা বেড়ে উঠে নৈতিক, আত্মিক ও জ্ঞানগত পূর্ণতায় এবং একইসাথে লাভ করে আদর্শ জীবন গড়ার প্রেরণা।
প্রতিষ্ঠার শুরু হতেই জামিয়াতুল উস্তায ছাত্রদের ব্যক্তিগত জীবন ও চরিত্র গঠনে সর্বাধিক মনোযোগী থেকেছে, যা আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য অতীব জরুরী। আরবি ভাষা ও সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি এখানে আত্মশুদ্ধি, চারিত্রিক উন্নয়ন, আল্লাহভীরু ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ছাত্রদের কোমল হৃদয়ে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিশুদ্ধ চিন্তাধারা বপনের মাধ্যমে তাদেরকে সমাজে ন্যায়-নীতি, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুত করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এপর্যন্ত প্রায় দুই হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী জামিয়াতুল উস্তায হতে উচ্চতর আরবি ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষকতা, দাওয়াতি কার্যক্রম, ভাষা প্রশিক্ষণ, লেখালেখি ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখছে। তারা নিজেদের জীবন সুন্দরভাবে গঠনের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও জাতিকে আলোকিত করার সেবায় নিমগ্ন রয়েছে।
বিশেষত, অধ্যয়ন ও পড়াশোনা কেন্দ্রিক মেহনতের জন্য জামিয়াতুল উস্তায ছাত্রদের একটি অধ্যাবসায় বান্ধব পরিবেশ উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে প্রতিবছর দেশের আনাচে-কানাচে হতে হাজারের অধিক ছাত্র জামিয়ার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ছুটে আসে। তালীমের পাশাপাশি ছাত্রদের সার্বিক তরবিয়ত, আমল-আখলাক, দৈনন্দিন আযকার-অযীফা, তাহাজ্জুদ, নফল, সুন্নাহর অনুসরণ ও ইসলামি শিষ্টাচারে অভ্যস্ত করে তোলার ব্যাপারে জামিয়াতুল উস্তায সর্বদা সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিশ্চিত করেছে।
প্রতিষ্ঠাকালীন মাত্র ৫০ জন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করে অতি অল্প সময়ে আট/নয় শত ছাত্রের সমাবেশ ঘটাতে পারা নিঃসন্দেহে জামিয়ার উত্তরোত্তর উন্নতির স্বাক্ষর বহন করে। আলহামদুলিল্লাহ, প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।
জামিয়ার মৌলিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ইসলামি আদর্শ, উন্নত নৈতিকতা এবং উচ্চস্তরের আরবি ভাষাজ্ঞানে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা। যাতে করে তারা কুরআন-সুন্নাহ বুঝার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ যোগ্যতা অর্জন করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্বীনি দাওয়াত ও ইলমি গবেষণার অঙ্গনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বর্তমানে একটি সমৃদ্ধ আদব বিভাগ ও কিতাব বিভাগ এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ-দুটি জামিয়ার মূল বিভাগ।
আদব বিভাগটি মূলত উচ্চতর আরবি ভাষা ও সাহিত্য পাঠদান ভিত্তিক একটি ডিপ্লোমা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরআন-হাদিস বুঝার সুদৃঢ় ভিত্তি নির্মাণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজারের অধিক আলেম এই ডিপ্লোমার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে এবং বর্তমানে তারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে।
জামিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—একটি আধুনিক আরবি মিডিয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, আন্তর্জাতিক মানের অনুবাদ প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা এবং একটি সমৃদ্ধ আইসিটি ডিপার্টমেন্ট ও শক্তিশালী গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি কিতাব বিভাগ ও আদব বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষাবান্ধব প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা জামিয়াতুল উস্তাযের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
এছাড়াও বিশ্বব্যাপী আরবি ভাষা ও সাহিত্যের সুভাস ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে জামিয়ার রয়েছে বেশকিছু দীর্ঘমেয়াদী ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বেশ কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। সেগুলোর অন্যতম হলো, সারাদেশের তালিবুল ইলমদের জন্য আধুনিক আরবি ভাষা ও সাহিত্য কোর্স, নাহু-সরফ ও ইবারত প্রশিক্ষণ কোর্স এবং খত্বে রুকআ কোর্স।
প্রতিবছর প্রায় সহস্র সংখ্যক তালিবুল ইলম এসকল কোর্স থেকে উপকৃত হয়ে আসছে। একটি মাত্র কোর্স-ই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে বহুজনের। তাই সারাদেশের সকল ছাত্র ভাইদের আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এসব কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করে থাকি।
